আমেরিকা , শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ , ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় মাঠে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি “কোনো কাজ নয়, কোনো স্কুল নয়”: আইসিই-এর বিরুদ্ধে ডেট্রয়েট উত্তাল বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা সতর্কতা আইসিই অভিযানের প্রভাবে ব্যাহত ডেট্রয়েটের শিক্ষা ব্যবস্থা : সুপারিনটেনডেন্ট মিশিগান রাজ্যে শিক্ষাদানকালীন সময় সেলফোন নিষিদ্ধের পথে জরুরি পরিস্থিতির পর মেট্রো বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড স্টপ প্রত্যাহার জামায়াত আমিরের সঙ্গে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট : কেন্দ্র ও ভোটকক্ষের তালিকা প্রকাশ শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় জামায়াত নেতা নিহত নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেবে না : রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ধীর অভিবাসন সত্ত্বেও মিশিগানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে গুলিতে নারীসহ তিনজন নিহত ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্রাবাসে গুলি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২০% শুল্কে ছাড় পেতে পারে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ‘সুপার ড্রাঙ্ক’ গাড়ি দুর্ঘটনা : মিশিগানে ফেডারেল জজ বিচারের মুখোমুখি ডেট্রয়েটে দুই অগ্নিকাণ্ডে দুজন নিহত পোলার ভর্টেক্সের দাপট : মিশিগানজুড়ে তীব্র ঠান্ডা, স্কুল বন্ধ ট্যাক্স মৌসুমে প্রবেশ করল যুক্তরাষ্ট্র

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের কোন সম্পর্ক নেই : প্রধানমন্ত্রী

  • আপলোড সময় : ১৭-০৭-২০২৪ ১২:০৩:৩৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০৭-২০২৪ ১২:০৩:৩৬ অপরাহ্ন
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের কোন সম্পর্ক নেই : প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা, ১৭ জুলাই (ঢাকা পোস্ট) : কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষে সারা দেশে যেসব প্রাণহানি ঘটেছে প্রতিটি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, কিছু মহল কোটা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এর ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তা খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, একটি আন্দোলন ঘিরে অহেতুক কতগুলো মূল্যবান জীবন ঝরে গেল। আপনজন হারানোর বেদনা যে কত কষ্ট, তা আমার চেয়ে আর কেউ বেশি জানে না। বক্তব্যের শুরুতে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে অত্যন্ত বেদনা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা,  চিকিৎসার ব্যবস্থা করে জনগণকে উন্নত জীবনযাত্রা দিতে শুরু করেছি। অনেক সাফল্য অর্জন করেছি। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটা মর্যাদার আসনে আসীন করতে সক্ষম হয়েছি। তারপরও আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বস্তি-শান্তিতে ফেরে তখন তাদের মাঝে এমন কোনো ঘটনা ঘটে যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করে একটা পরিপত্র জারি করে সরকার। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে উচ্চ আদালত ২০১৮ সালের জারি করা সরকারি পরিপত্র বাতিল করে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে পরিপত্র বহাল রাখার জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। আদালত শুনানির দিন ধার্য করেন। এ সময় ছাত্ররা কোটা বাতিলের দাবি নিয়ে আবারো আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকার যথেষ্ট ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে।
আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ সহযোগিতা করেছে। রাষ্ট্রপতির কাছে যখন আন্দোলনকারীরা স্মারকলিপি প্রদানের ইচ্ছাপোষণ করে সেক্ষেত্রে তাদের সুযোগ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।  
সরকারপ্রধান বলেন, যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমি প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই। ছাত্ররা উচ্চআদালত থেকে ন্যায়বিচার পাবে, তাদের হতাশ হতে হবে না। উচ্চ আদালত থেকে ছাত্রসমাজ ন্যায়বিচার পাবে এবং তাদের হতাশ হতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সরকারপ্রধান বলেন, আমার বিশ্বাস আমাদের ছাত্রসমাজ উচ্চ আদালত থেকে ন্যায় বিচারই পাবে। তাদের হতাশ হতে হবে না। আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় আন্দোলনে নেমে দুষ্কৃতকারীদের সুযোগ করে দেবেন না। সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে। আপিলে আদালতে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোনো বক্তব্য থাকলে আদালত তা শোনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই। যে ঘটনা ঘটেছে সেটা কাম্য ছিল না। চট্টগ্রামের বহুতল ভবন থেকে সন্ত্রাসীরা ছাত্রকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে নিচে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। অনেক ছাত্রের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। তাদের ওপর লাঠিপেটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তাদের একজন মৃত্যুবরণ করেছে এবং অনেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ঢাকা, রংপুর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। সাধারণ পথচারী ও দোকানেদারকে আক্রমণ করা হয়। এমনকি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা প্রদান করা হয়। মেয়েদের হলে ছাত্রীদের আক্রমণ করা হচ্ছে এবং লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। আবাসিক হলে প্রভোস্টদের হুমকি এবং আক্রমণ করা হয়েছে। শিক্ষকদের উপর চড়াও হয়ে তাদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত তাদের সঙ্গে এই সন্ত্রাসীদের কোনো সম্পর্ক নেই। সন্ত্রাসীরা এদের মধ্যে ঢুকে সংঘাত ও নৈরাজ্যমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। যারা শহীদ হয়েছে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য যা করা দরকার তা আমি করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি— যারা সন্ত্রাস, লুটপাট এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে তারা যেই হোক না কেন তাদের শাস্তির আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
তিনি বলেন, কাদের উস্কানিতে সংঘাতের সূত্রপাত হলো; তারা কোন উদ্দেশ্যে এমন অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলো তা তদন্ত করে বের করা হবে। আমি আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এ সন্ত্রাসীরা যেকোনো সময় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে এই শিক্ষার্থীদের প্রতি সাধন করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা অভিভাবক এবং শিক্ষকদের প্রতি আমার আবেদন তারা যেন তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে সজাগ থাকেন।
প্রসঙ্গত, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন গতকাল মঙ্গলবার বেশ সহিংস রূপ নেয়। এদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
এ অবস্থায় মঙ্গলবারই সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। হলগুলোর ভেতরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ ৬ জেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় মাঠে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় মাঠে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি